রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

দেশের কথা

শিশুশ্রম রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি
আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। তথা, বর্তমানে যারা শিশু রয়েছে তারাই এক সময় বড় হবে, দেশ ও জাতির হাল ধরে দেশকে আরো এগিয়ে নেয়ার সংগ্রামে লিপ্ত হবে। তাদের উপরেই নির্ভর করবে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ।
কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আমাদের সমাজের শিশুরা পরিপক্ব হতে না হতেই বা শিশু থাকা অবস্থায়ই তাদের হাতে কলম না ধরিয়ে দিয়ে, শ্রম ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে তাদের ভবিষ্যৎটা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয় না।
বর্তমানে দেশব্যাপী শিশুশ্রম একটি গুরুতর ও জটিল সামাজিক সমস্যারূপে বিরাজ করছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয়সমাজে শিশুশ্রমের বিস্তার সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে।
পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জাতিসংঘ শিশু তহবিলের তথ্যমতে বাংলাদেশে ১৪ বছরের কম বয়সী ৬.৩ মিলিয়ন শিশু গার্মেন্টস, ইন্ডাস্ট্রি, বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে। এছাড়াও বাংলাদেশের শিল্প কারখানাগুলোতে ৪০ শতাংশ শিশু কাজ করে। বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, দেশের মোট শ্রমিকের ১২ ভাগই শিশু শ্রমিক। এছাড়াও শহরাঞ্চলে শিশুরা কুলি, হকার, রিকশা শ্রমিক, ফুল বিক্রেতা, আবর্জনা সংগ্রাহক, ইট-পাথর ভাঙ্গা, হোটেল শ্রমিক ছাড়াও নানান ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে থাকে।
এমনকি অনেক সময় অসৎ সঙ্গ দিয়ে নানা রকমের অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি, দিন দিন শিশুদের অপরাধমূলক কার্যক্রম যেন বেড়েই চলছে।
এছাড়াও, শিশুশ্রমের কারণে শিশুর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে নানান নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন- শিশুশ্রম শিশুর স্বাস্থ্যে ব্যাঘাত ঘটায় ও শারীরিক বিকাশে অন্তরায় সৃষ্টি করে, মানসিক বিকাশকে ব্যাহতকরণসহ, নিরক্ষরতা, অশিক্ষা, অজ্ঞতা বৃদ্ধি করে। গ্রামীণ ও শহুরে উভয় জনপদেই নানান অবহেলার কারণে শিশুরা শিশুশ্রমের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে। সঠিক দিক নির্দেশনা, পরিবার ও সমাজের সচেতনতায়ই আজকের এই শিশুরাই গড়ে উঠবে আগামীর সুনাগরিক হিসেবে।
শিশুশ্রম রোধ করে শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে তাদের হাতে কলম ধরিয়ে দিতে সকলকেই অগ্রণী ভুমিকা রাখতে হবে এবং শিশুশ্রম মুক্ত করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দন্ডবিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সব শিশুকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য যেকোন মূল্যে শিশুশ্রম বন্ধ করার মাধ্যমে শিক্ষাসহ সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতেই শিশুদের ভবিষ্যৎ আলোকিত হবে বলে আশা করা যায়।
-মো. তামিম সিফাতুল্লাহ, মদীনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, রাজশাহী সদর।

নদী দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটের ভাটা বন্ধ হোক
দেশে ইট ভাটা নির্মাণের পরিবেশ আইন বা ইট ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন থাকলেও এসব আইন মানা হচ্ছে না। নদীকে শাসন করে নিজেদের মতো ব্যবহার করছে একটি মহল।
নদীতে চর জাগা খাস জমি কিংবা ফসলি জমি কিছুই বাদ যাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বেশিরভাগ ভাটার পরিবেশ ছাড়পত্র বা বৈধ লাইসেন্স নেই।
নদী দখল করে ব্যাঙের ছাতার মতো ইটের ভাটা তৈরি হচ্ছে অহরহ। ফলে নদীগুলো হারাচ্ছে তার নাব্য জলযান চলাচলে তৈরি হচ্ছে নতুন সমস্যা। ইটের ভাটার চিমনিও বানানো হয় অনৈতিকভাবে।
এসব ইটের ভাটায় কয়লার পরির্বতে ব্যবহার করা হয় গাছের গুঁড়ি কিংবা কাঠ, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। গাছের গুঁড়ি বা কাঠ আনা-নেওয়া করা হয় ট্রলি নামক যানে করে; যার কালো ধুঁয়া করছে পরিবেশকে দূষিত। এসব ফিটনেস বিহীন অবৈধ গাড়িগুলোর জন্য দুর্ঘটনাও হচ্ছে হরহামেশা। অবৈধ ইটের ভাটার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ জনগণও মুখ খুলতে পারছে না।
নদীকে বাঁচাতে এবং পরিবেশ বাঁচাতে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। এসব দখলদার অবৈধ ভাটা মালিকদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সরকারি উর্ধতন কর্মকর্তারা শীগ্রই এসব অবৈধ ইটের ভাটাগুলো বন্ধে এগিয়ে আসবে বলে মনে করি।
-মিরাজ মিঠু,
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ