শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

কবিতা

দেশটা এবার স্বাধীন হলো

সোলায়মান আহসান

মধু খাওয়া শেষ হলো কি মধু খাওয়া?

কেমন লাগে আমজনতার পিছু ধাওয়া!

 

এখন কেনো মুখটি ঢাকো চকির তলায়?

ওই দেখো না ঝুলছে তোমার ফাঁসি গলায়।

 

বিনা দোষের লোকগুলোকে দিয়ে ফাঁসি!

গুম করেছো কতো জনা হাসি হাসি।

 

কতো জনা নানা ছলে ক্রসফায়ারে

পাঠিয়ে দিয়ে জীবনখানা নিয়ে কেড়ে।

 

লম্ফ-ঝম্প রক্তচক্ষু দেখিয়ে ভীষণ!

শাসন করার নামে করে জারি ত্রাসন।

 

এখন তুমি তোমরা কোথায় নদের চাঁদ?

বাঁচতে পাড়ি দিচ্ছো নাকি খুঁজছো ফাঁদ।

 

আর হবে না আর হবে না ধোঁকাবাজ!

এবার হবে কায়েম হবে দেশের রাজ।

 

দেশের মানুষ চিনে গেছে শত্রু কারা?

মুখোশধারী দেশনায়িকা একটু দাঁড়া!

 

দেশটা এবার স্বাধীন হলো কথার কথা!

মনের সুখে গড়বে এবার আমজনতা।

 

অন্ধ

শামীম শাহাবুদ্দীন

সারাটাজীবন ভুল বুঝেই গেলি

সেক্রিফাইসটা দেখলি না!

ইচ্ছে করে কেউ অন্ধ হলে

তাকে পথ দেখানো যায় না

কেউ মজলুম হলেই তার প্রতি

জুলুম করতে হয় না।

 

মালিক সব দেখছেন, শুনছেন

সবকিছুর ফায়সালা 

উপরে হয়-

জমিনে নয়।

 

 

মুগ্ধ একটি ফিনিক্স পাখি 

নয়ন আহমেদ 

থমথমে দুপুরের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলো আরো একটি দুপুরÑ

            সুচালো এবং তীব্র 

ধারালো এবং আপাদমস্তক যোদ্ধার মতো;

জুলুমের অবসানের মতো শান্তিময়Ñ

আর বাতাসে ভেসে আসা গতানুগতিকতার পর্দা ভেদ করা

                    ভবিষ্যতের মতো সরল;

আরো একটা দুঃখ মুছে ফেলার প্রত্যয়ে সহিষ্ণুÑ

মুগ্ধ তখন ‘পানি  লাগবে, পানি’!

বলে হাঁক দিচ্ছেন উপস্থিত জনতার উদ্দেশে।

যেন তিনি লোকদের তৃষ্ণা নিবারণে সদা সতর্কÑ

যেন তিনি আজন্ম সেবা ও আশ্রয়-

যেন তিনি পৃথিবী শীতল করা ফারিশতা মিকাইলÑ

যেন তিনি ধানের দেশের বদান্যতাÑ

যেন তিনি গমখেত থেকে উঠে আসা 

মনোযোগ;

যেন তিনি আশা ও আশ্বাসের বাতিঘর।

ঠিক তখনই নিহত হলেন তিনি পুলিশের গুলিতেÑ

তখন বাংলাদেশের হৃদয় কেঁপে উঠলো।

তখন পৃথিবী জুড়ে সন্ধ্যা নামলো হাহাকারের মতো।

তখন আরো একবার মানবতার অস্ত গেলো।

মানচিত্রের চোখ অন্ধ হয়ে গেলো।

সমস্ত সূর্যোদয় কালো ব্যাজ পরিধান করলো।

কিন্তু, রাষ্ট্রের চোখ অন্ধ হয়েই রইলো চিরকাল।

জন্মাবধি  সে বোবা, বধির, বিকলাঙ্গ।

নিঃসন্তান রাজার মতো না-মানবিক।

আহা, এমন দুপুরের উদরে মুগ্ধ সমাহিত হলেন!

এমন অজগর-কালে; আহা! আহা!

এমন আওয়ামি-দুপুরে!

 

আহা, মুগ্ধ আমার! তুমি ফিনিক্স পাখির মতো উঠে আসো আবার!

এক্ষুনি উঠে আসো। এক্ষুনি!

আবার বৈষম্য-বিলোপকারীদের কাতারে দাঁড়াও।

আবার মিছিল হও; শ্লোগান হও।

কেবল জীবন হও। 

অ্যাপোলোর মতো অনিবার্য অগ্নি হও।

 

পথহীনের আশ্রয়

এম. এ. শিকদার

এক ঘোর কুয়াশায় তোমার মায়ায় আকৃষ্ট হয়েছিলাম

কতো গল্প কতো কথাই না হতো দুজনের

সময় পেরিয়ে বেশ দূর যেতে পারেনি ঊষ্ণতাপে

জানান দিচ্ছিল হয়তো গ্রীষ্ম 

কিন্তু সময় দরিয়ায় তাকিয়ে দেখছিলাম কুহেলিকা আসবে

ঠিক তার দুপ্রহর পরে আর এরই মধ্যে ঘটে গেল ঝড়

ঝড়ে ঘরবাড়ি বসত ভিটে  তছনছ হয়ে গেল সবই

নীল দরিয়ার তীরে হাতছানি দিয়ে 

ডাকলো শোকানলে কঙ্কাল এক মানুষ

আশ্রয়ের হাত বাড়িয়ে দিলো থাকার আবাস..। 

 

 

জাদুর ইঙ্গিত

রবিউল রতন

এই হাতগুলি ধ্রুপদী নদীর ঢেউ

জিহ্বায় গোপন প্রতিধ্বনি

লুকোনো বাসনা

বিপুল পা'গুচ্ছ - হঠাৎ ধুলো ওড়ে

কুসুম রোদ্দুরে,

 

সময়ের গ্রীবায় তীব্র আগুন

আস্তিনে আস্তিনে জাদুর ইঙ্গিত

বসন্তের ভাষা বোঝেনি নির্বাক চোখ!

অতঃপর ক্ষিপ্র ঘোড়াগুলি

দৌড়াতে দৌড়াতে এসে চুমু খায়

জলের ত্বকে; চারদিকে ফুল হাসে

পাখি ডাকে মনের আনন্দে।

 

দেখা

সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় 

মুখ চেয়ে বসে আছি দুজনে

বাইরে হাওয়া। ভেতরে ঘর 

ঘরের মধ্যে ধুলো বালি মাখা আকাশ

তারা জানে কোথায় থেমে যেতে হয়

ধ্রুপদী জ্যোৎস্না তাদের রহস্য বুনে আছে

এক একটা কাল বয়ে যাচ্ছে

আমাদের কোনো কথা নেই

শুধু চেয়ে আছি

চোখের পলক ফেলছি না

আজ সমুদ্রে নেমেছি

একে অপরকে ডুবতে সাহায্য করছি। 

 

মনের কাঠগড়ায়

আনজানা ডালিয়া

নীরবতার ভেতরে রয়ে গেছে তোমার চাওয়া সব উত্তর,

দীর্ঘ নীরবতা তোমার চেনার পথ সাজাবে

দাড়াও আয়নার সামনে,

প্রশ্ন করো

একমাত্র আয়না তোমায় ছল করবে না

মিথ্যে বলবে না।

সত্যিটা সাজিয়ে দিবে সুন্দরের আলনায়

লুকানো যায় না ভালোবাসার স্বরলিপি

এটুকু-

বুঝেও অভিযোগ করো

দেখেও দেখোনা হৃদয়ক্ষরণ

দাঁড় করালে মনের কাঠগড়ায় ।

 

খোয়াব

সাদ বিন হাসান

জুমা বার আসলেই আমার খালি মদীনা চইলা যাইতে মনে চায়-

মদিনা যেন বৃহস্পতিবার থেকে বহুদূর!

সারারাত ফুরায়ে গেলে মুয়াজ্জিন কয় মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ্

আমি তো কই মুহাম্মদ আমার নবী!

যেন আমি ঘুরে তাকালেই দেখি সবুজ গম্বুজ

 à¦†à¦° মুসাফিরদের চঞ্চল পদচারণা

আমার অন্তর জপতে থাকে 

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

পৃথিবীর সব দরুদ আমি পড়ে ফেলি অনায়েসে 

শুধু মদীনা যেতে পারি না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ