শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

কবিতা

রং

মুসা আল হাফিজ

 

কতবার বলেছো রংধনু মনের বেশ সুস্বাদু আহার ।

কতবার তালপুকুরে ডুবে গেছো আকাশের বিস্ময়ে।

তখনো কিশোর তুমি, তখনো সবুজ।

 

এখন কত আর বয়স?

মধ্যযৌবন!

সবুজের মনোবনে খেলবে সাতরং

 

কিন্তু বিগত তুফান শেষে যখন পেখম মেলা

আকাশ দেখতে ডাকলাম,

তুমি বললে রংধনু দেখে আর কাজ নেই!

 

শতরূপে মানুষের বদল দেখতে দেখতে

রংধনু এই চোখে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে!

 

ডানামেলা মন 

সাজু কবীর

 

কবি জ্যোতির্ময়,

বাম-পকেটে প্রাতের কলাপাতা রোদ্দুর-মন-

প্রশান্ত মহাসাগর

ডান পকেটের পুঁজি হিমালয়সম নির্ভীক বিশ্বাস...

 

'ডান'টা 'বাম'এ ঢুকতে না ঢুকতেই

প্যাচপ্যাচ করে ডুবে যায় তলদেশে,

তখনো হাজার হাজার ফুট ওপরে

মনের একচ্ছত্র রাজত্ব বিস্তীর্ণ জলরাশিতে...

 

ঊষর ধূসর মন আর আশাবাদী বিশ্বাস আমার

এখনো ডানা গুটিয়ে নেয়নি

আকাশে আকাশে নয়, মনে মনে বিচরণ করে।

 

মেধা ভাস্কর্য

শওকত আলম

 

একটি তারা হাজার তারা খসে

উলোট পালোট চরকি ঝালট

রক্ত নেশায় লড়ে সৃজনশীল গড়ে

ভাঙতে জানে গড়তে জানে সে।

 

একটি নদী সাগর ঝরকা কাটে

বাতাস দোলে উর্মিমালা

সকাল সন্ধ্যা নামে প্রো-বিশ্ব জুড়ে 

পাতালপুরে আবাসন গড়ে।

 

একটি শিমূল গাছ সূর্য ফুলের রাণী

ধ্বংস ধ্বনি গুগল মনি

নোনাপাথর ধরে হীরামন রত্ন

পোড়ানীতি গড়ে স্বর্গ নীড়।

 

এক একটি আকাশ অনেক তারার মেলা

ছায়া পড়ে জ্যোস্নার আলোর খেলা

রক্ত নহর গড়ে মেধার ভাস্কর্য 

কোটা স্মৃতি বাংলাদেশের নাম। 

 

 

ধূলি  

আকিব শিকদার 

 

আজ মরে দেখো কালকে তোমার  

রক্ত মাংস চামড়া ও হাড় 

সুঠাম দেহ সুশ্রী চেহারা নখ দাড়ি চুলগুলি  

মাটির গ্রাসে ধূলি ধূলি হবে ধূলি। 

 

কত পরিজন, বিশাল উঠান 

শানবাঁধা ঘাট বাড়ি আলিশান  

এক নিমিষে অন্যের হাতে যাবে সমস্ত চলি  

কালক্রমে ধূলি ধূলি হবে ধূলি। 

 

আজ মরে দেখো কালকে তোমার  

থাকবে শুধু সৎ-ব্যবহার  

মানুষে মানুষে ভালোবাসা-বাসি পরোপকারগুলি  

বাকি যা ছিল - ধূলি ধূলি হবে ধূলি। 

 

থাকতে সময় আল্লাহরে ডাকো  

পরজীবনের সঞ্চয় রাখো  

সেজদায় পড়ে জায়নামাজে ঠেকাও মাথার খুলি  

নাহলে সব ধূলি ধুলি হবে ধূলি। 

 

কবর

শারমিন নাহার ঝর্ণা

 

চারটি দেওয়াল জানালা বিহীন আলয়

অসীম আঁধারের ছাউনি,

পালঙ্কহীন বিছানায় নিথর শরীরটার সাথে

পড়শী অজস্র পোকা মাকড়।

 

কোথায় সেই আলো ঝলমলে নিখিল?

কোথায় রেষারেষি অহংকার হিংসা বিদ্বেষ?

কোথায় কালো টাকা আর বড় বড় অট্টালিকা?

এই অসীম আধাঁরে প্রশান্তির আলো জ্বেলে

দিতে পারে শুধুই নেক আমল,

 

এনেছো কি সাথে অন্তবিহীন এই পথে?

হে মুসাফির দুনিয়াতে করো একটু সবর,

তোমার অপেক্ষা পথ চেয়ে অন্ধকার কবর।

 

মৃত্যুর মৌনঘ্রাণ

আবির হাসান 

 

কৈশোরের হলদে সন্ধ্যা, একটি ফুল রোগাক্রান্ত হয়ে

ঝুলে আছে বৃক্ষের দেহে!

হৃদয়ে মরে যাবার ভয় নেই দুরন্ত জোনাকির মতো

যেনো জীবন ব্যথার বিছানায় শুয়ে শুয়ে

বেঁচে থাকার প্রার্থনা করছে, আর মনে মনে ভাবছে

সয়ে যাওয়া সব দুঃসময়ের স্মৃতি

আচমকা জরদ বাতাসে পালক ছিঁড়ে যাওয়া

ডাহুকের কাছে মৃত্যু আসলে কী? জানি না!

তবুও কেনো যেনো মনে হয় জীবন ব্যতিব্যস্ত হয়ে

চলে যাচ্ছে গোরস্থানমুখী মৃত্যুর খাটিয়ার সাথে সাথে,

আজন্মকাল না ফেরার পথে।

 

প্রতিশ্রুতি

সাদিক আল আমিন

 

সুরঙ্গের পরেই যে অবিরল নদ, তার জখমে

আলতো চুমোয় কেটেছি আজ সারাদিন

সন্ধ্যে হতেই সন্ধানী চোখের লাভায় পুড়ে পুড়ে

ছাই হয়ে যাচ্ছি-

হাস্নাহেনা, আমাকে বাঁচাবে যদি, এসো

আগুনকথা পিষে ফুলেল সৌরভে জড়িয়ে নিতে দেহ; 

এসো, যদি দাও আরেকটি নীরবতার স্পর্শ

নিজের ভেতরের শত বছরের জখম

অচিরেই সারিয়ে তুলবো আমিও।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ