শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

মামলা নিয়ে কথা

সারাফাত ইসলাম ডলার দীর্ঘ ১২ বছর ধরে থাকেন ইতালির মিলান শহরে। তার বাবা রাজা জমাদ্দার অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। তিনি কয়েক বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তাদের বাড়ি মাদারীপুরের চরমুগারিয়া এলাকায়। অথচ তাদের নামে ঢাকার সিএমএম আদালতে হত্যা মামলা করা হয়েছে। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মামলার বিবরণে তারা গুলী ছুড়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সেই গুলিতেই নাকি মারা গেছেন এক যুবক। 

স্থানীয়দের দাবি, ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এ মামলা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ সরকার বলেন, ডলার ১২ বছর ধরে ইতালি থাকেন, আর তার বাবা অসুস্থ লোক। ঘর থেকে বের হতে পারেন না। মাদারীপুর জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব অহিদুজ্জামান খান বলেন, ‘মাদারীপুরের একজন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কুপরামর্শ দিয়ে এই মিথ্যা মামলা দেওয়াইছেন। সেই ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি মূলত আওয়ামী লীগের লোক। তার সঙ্গে যাদের দ্বন্দ্ব তাদের হয়রানি করার জন্য এ মামলা দায়ের করিয়েছেন। মামলার আসামি সারাফাত ইসলাম ডলার বিএনপি নেতা। ছাত্র আন্দোলনে নিহতের ঘটনায় বিএনপি নেতা আসামি হওয়া দুঃখজনক।

প্রতিবেদনের আলোকে উপলব্ধি করা যায় যে, মামলার ঘটনা খুব একটা সরল নয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকার সিএমএম আদালতে মনিরুজ্জামান মনির নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলার আসামি ২৬ জন। এরমধ্যে ২১ জন মাদারীপুরের বাসিন্দা। অন্য আসামিরা হলেন-সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ। এই পাঁচজনের ঠিকানা ঢাকা হলেও অপর ২১ জনের কেউই ঢাকার বাসিন্দা নন। অভিযোগ উঠেছে, আসামির নাম বাদ দিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক এই ভাইস চেয়ারম্যান একাধিক আসামির কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছেন। উল্লেখ্য যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরকার পতনের পর রাজধানীর ফুলবাড়িয়া মার্কেটের সামনে পুলিশের গুলীতে মনির নামে এক যুবক নিহত হন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। নিহত মনির মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা শাখারপাড় এলাকার নূরুল ইসলাম মোল্লার ছেলে।

নিহত মনিরকে কেন্দ্র করে হত্যা মামলায় ২৬ জনকে আসামী করা হয়। হত্যা মামলায় সঠিক তদন্ত হবে, সুবিচার হবে এবং অপরাধীরা শাস্তি পাবে-এটাই ছাত্র-জনতা তথা দেশবাসীর দাবি। কিন্তু পত্রিকার প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত শত্রুতা ও অর্থ আদায়ের বিষয় যুক্ত হয়েছে মামলার সাথে। এমন অভিযোগ খুবই গুরুতর। আর এমন অভিযোগ শুধু এক জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং এমন জঘন্য প্রবণতার বিরুদ্ধে গ্রহণ করবেন সঙ্গত পদক্ষেপ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ