শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

কবিতা

ছাত্রছাত্রীরা বিপ্লবী কবি

আবদুল হালীম খাঁ

 

আমাদের ছাত্রছাত্রীরা বিদ্রোহী কবি

সারাদেশে রাজপথে হাজার প্রাণের তপ্ত রক্ত ঢেলে

পাঁচ আগস্ট বিপ্লবী কবিতা লিখে আমাদের চমকে দিয়েছে।

সতের কোটি জনতার স্বপ্ন মাখা বুকের ভাষায়

দাবানলের মতো উত্তাল শব্দ ছন্দে

যে কবিতা এতোদিন কোনো কবি লিখতে পারেনি

খুঁজে পায়নি কবিতা লেখার ভাষা-উপমা।

 

আমাদের ছাত্রছাত্রীরা বিদ্রোহী বিপ্লবী শিল্পী

পাঁচ আগস্ট আমাদের বুকে জ¦à¦²à¦¨à§à¦¤ ছবি এঁকেছে

হাজার প্রাণের রাঙা খুনে তুলি চুবিয়ে ছবি এঁকেছে

পথে পথে কারাগারে।

যে ছবি এতোদিন কোনো শিল্পী আঁকতে পারেনি

ছবি আঁকার রঙ পায়নি খুঁজে।

 

আমাদের সোনার ছেলেমেয়েরা বিশ^জোড়া আকাশ ছোঁয়া

সুর দিয়ে গান লিখেছে

গানের সুরে সুরে সারাদেশ জেগে ওঠেছে

পরাধীনতার বাঁধ ভেঙেছে

আমরা এবার পেয়েছি স্বাধীনতার স্বাদ

পেয়েছি স্বাধীনভাবে পথ চলার কথা বলার ভাষা।

 

আমাদের ছাত্রছাত্রীরা দেখিয়ে দিয়েছে

দেশকে ভালোবাসার জন্য কীভাবে জীবনের উপমা দিয়ে

কবিতা লিখতে হয়, ছবি আঁকতে হয়

কীভাবে রাজপথে পুলিশের গুলির সামনে

বুক পেতে দিয়ে নির্ভয়ে গানে সুর দিতে হয়।

 

চলোনা হারাই

সিদ্দিক আবু বকর

 

[আয়েশা আক্তার মিতু প্রিয়তমেষু]

এসোনা একবার পাশাপাশি বসি

দ্বিধা সংশয় যত ইরেজারে ঘষি

স্বপ্নের ডানা মেলে পাড়ি দেই বন

সাথী করে সাদামেঘ পাখির কূজন।

 

সত্যের মতো, মিছে হররোজ বলা

ভুলে যাই কুটচাল যান্ত্রিক-কলা

ভুলে যাই করুণা ভুলে যাই ছল

নীল সবুজের মাঝে, ওসব অচল।

 

মেকি গাণিতিক জীবন বড় ম্যাড়মেড়ে

চলোনা হারাই সব ডামাডোল ছেড়ে

এই লোকালয় ছেড়ে প্রকৃতির ঝোঁকে

প্রকৃত সুজন হই প্রকৃতির বুকে।

 

ফুল পাখি নদী হই, হই কাশবন 

প্রকৃতির খোলা বই, প্রাণের সুজন

বেতের কাঁটায় বাঁধি ঘড়ির জুয়েল

নীল-সবুজেই খুঁজি জীবন ফুয়েল।

 

বিশ্বাস

আশরাফ জামান

 

মৃত্যু উপত্যকা দিয়ে আমি হেঁটে চলেছি

আমার চারদিকে ঘিরে আছে শান্তির ফেনিল ¯à§à¦°à¦¾à§‡à¦¤

জীবনের এক সময়কার হারানো স্বপ্নগুলো

মাঝে মধ্যে উঁকি দিয়ে যায় আমাকে কাঁদায়

জানি বয়স বেড়েছে সময় গড়িয়ে গেছে

এখন বিদায় নেবার পালা এ আলো অন্ধকার

তরুছায়াঘন পৃথিবী থেকে।

চির পরিচিত একটা জগত থেকে যাবো অচেনা জগতে

সেখানে খুঁজবো মুক্তি মহান প্রভুর কাছে আশ্রয়।

যিনি আমায় দিয়েছেন জীবন ও জীবিকা দিয়েছেন আয়ু

ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ পৃথিবীতে একটু সুখ নামের সান্ত¡à¦¨à¦¾

তিনিই দেবেন আমার পরম প্রশান্তি

অতল মাটির গহ্বরে যাত্রার পর, সে বিশ^াস

মনে প্রাণে।

 

নোনা জলের ঢেউ

নুশরাত রুমু

 

হেমন্তের আকাশ নিয়ে নামল অমাবস্যার রাত,

এলোমেলো হাওয়ার দীর্ঘশ্বাসে

কান্না হতে চায় সহযাত্রী। 

ঝিঁঝির ডাকে মিলিয়ে যায় বেসুরো গলার গান,

শিমুল তুলোর মতো উড়ে যায় অন্তরীণ স্বপ্নগুলো। 

জীবনের নাপাওয়াগুলো পাল তুলে

এগিয়ে আসে মনের সমুদ্র পথে...

ঝুলবারান্দার শক্ত মুঠিতে 

সুপ্ত বাসনারা গুমরে কাঁদে।

 

জেনাকির ক্ষীণ আলোয় হাহাকার মুচড়ে ওঠে,

হারিয়ে গেছে হঠাৎ কুড়িয়ে পাওয়া একমুঠো খুশি।

চুপিচুপি মন বারান্দায় যে এসেছিল

শীতের রোদ্দুর হয়ে,

যেখানে দাঁড়িয়ে  ক্লান্তির সীমানা পার হওয়া যেত

সে কখন নোনা জলের ঢেউয়ে মিশে গেল!

টের পাইনি।

 

একাঙ্কিকা

জাকির আজাদ

 

বারে বারে হেরে যাই সব কিছুতে,

আমার এসব পরাজয়ে সুখের সুখ বিদ্যমান

যে সুখ পেতে পরাজয়ে থাকি মেতে

যে পরাজয়ের পথে যেতে আমি উন্মুখ।

 

নরলোকে করুক যত তত কুৎসা বিষোদগার,

তবু আমি হেরে যেতে চাই বার বার

হেরে যাওয়া তার প্রবণতা বেড়ে যাওয়া

আমার উৎসাহের উৎস বরাবর।

 

আমার জন্য কেউ কাক্সিক্ষত নয় কিংবা আমি,

সজ্জা পেতে হেরে যাওয়ার লজ্জা

যেখানে সুখের নিদ্রা সগৌরবে মাতে দিবারাতে

কষ্ট কি করে পোড়াবে পূর্বেই দগ্ধ বিদগ্ধ।

 

দুঃখ কি করে করবে দুঃখী আগেই দুঃখের সত্তা,

বেদনা নিত্যদিনের ধ্যান ধারণায় প্রদীপ্ত

পরাজিত জীবনের ভার ও তাড়না

আমার একার আর কারো কাছের বা দূরের না।

 

অনুভূতির পরতে পরতে পরাজয়ের পরশ জুড়ে থাক,

অস্তিত্ব কেঁপে উঠুক বার বার পরাস্ত হয়ে

ওতে আমার পর্যুদস্ত জীবনের প্রশান্তি পরম

ওতে আমার প্রাণের প্রাচুর্য চরম।

 

মায়াময় সংসারে

ইলিয়াছ হোসেন

 

জীবন এগিয়ে চলে অজানা গন্তব্যে

স্বপ্নরা ভর করে বুকের বাঁ পাঁজরে

আনমনে ভাবি একফালি সুখের কথা,

ভালো লাগার উৎস খুঁজি প্রতি মুহূর্তে

স্মৃতির পাতায় অবিরাম চোখ বুলাই

হতাশা আর না পাওয়ার যন্ত্রণায়

আটকে যায় কালের ঘড়ি।

অনিবার্য কারণে চোখে ভাসে সর্ষেফুল

এ যেন বেদনার সাথে একাত্মে বসবাস,

কষ্টের মাঝেও বেঁচে থাকার উপায় শিখে

নিয়েছি এই মায়াময় সংসারে।

 

ময়ূরীর বিচিত্র পেখম 

আহমেদ ইউসুফ 

 

মানুষ আমার দিকে তাকায়

                        যেমন আয়নায় দেখে মুখ

আর আমি তাদের হৃদয়ের দিকে তাকাই 

যা আয়নাও আঁচ করতে পারেনি ইহকাল। 

আঁচ করতে পারেনি শ্রাবণের মেঘ

                            বসন্তের বাউড়ি বাতাস 

চিলেকোঠার চড়ুই; ময়ূরীর বিচিত্র পেখম। 

 

তবুও কেমন সুন্দর মেকির মতোন লাগেনি 

কখনও সখনও চলনে-বলনে মানবজীবন।

 

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ