শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

কবিতা

নেমন্ত

আবদাল মাহবুব কোরেশী

হিম কুয়াশায় চাদর পড়ে, আসলো আবার হেমন্ত

আমার গাঁয়ের ছনের ঘরে, থাকলো সবার নেমন্ত ।

 

মায়ের হাতের চিড়া, নাড়ু পিঠা, পায়েস রুটি

ভাত খাওয়াবো বিরন চালের-ভাঁজা ইলিশ-পুঁটি ।

 

দই খাওয়াবো খই খাওয়াবো আর খাওয়াবো মুড়ি

খেতে দেবো ইচ্ছে মতোন, ঝাল পরোটা’র পুরি ।

 

আরো দেবো খেজুর রস, মিষ্টি আখের গুড়

‘গুনাই বিবি’র গান শুনাবো, পাতার বাঁশির সুর ।

 

হিজল তলে নিয়ে যাবো, পাখ-পাখালির দেশ,

কচিরমিচির পাখির আবাস, মধুর পরিবেশ!

 

সবুজ মাঠের সবুজ বনে, আমন ধানের ক্ষেতে

দুর্বাঘাসের সিংহাসনে-আসন দেবো পেতে ।

 

অবাক চোখে দেখবে তুমি, ভরবে তোমার মন,

আমার গাঁয়ের শ্যামল ছায়া, করবে আলিঙ্গন ।

 

আঁকতে পারি

সাকী মাহবুব 

আকঁতে পারি দেশের ছবি 

আঁকতে পারি মাঠ,

আঁকতে পারি বন-বনানী 

সানবাঁধানো ঘাট।

 

আঁকতে পারি পাখপাখালি 

আঁকতে পারি ফুল,

আঁকতে পারি মায়ের ছবি 

বুবুর কানের দুল।

 

আঁকতে পারি সাগর -নদী 

আঁকতে পারি জল,

আঁকতে পারি গাছ -গাছালি 

মিষ্টি মধুর ফল।

 

বাচালতা

আজিজ বিন নুর 

কথা চালাচালি রোগে

অনেক লোক ই ভোগে

বিয়োগ কিংবা যোগে

খোঁজে ভুল, নিস্তার নাই।

 

এ কথা ও কথা নিয়ে

লাগায় ছুটে গিয়ে

এ কান ও কান দিয়ে

ঘটে যায় বিস্তার ভাই।

 

বুভুক্ষার অসুখে ভোগে

বাচালতার রোগে

হয়ে যায় হুজুগে

সুযোগের ইস্টার তাই।

 

তাদেরকে অসুস্থ ভেবে

চুপচাপ কাশি দেবে

না হয় ফাঁসি নেবে

ওপাড়ার মিস্টার হাই।

 

রাজাধিরাজ

আবদুল হাই ইদ্রিছী 

ঐ যে আকাশ শূন্যে দাঁড়ায়

কেমন করে বলো,

নদী-নালা পাহাড়গুলো

এমনিতে কী হলো?

 

কোথা থেকে বৃষ্টি ঝরে

বাতাস বয়ে যায়,

কোন্ কারিগর পাখিগুলো

আকাশে উড়ায়?

 

কেমন করে ছোট্ট শিশু

মায়ের পেটে বাঁচে,

যত্ন নিতে কেউ কী তখন

থাকে তাহার কাছে?

 

কেমন করে বাতাস টেনে

বাঁচে প্রাণিকুল,

কার ইশারায় জগৎ চলে

কে রয়েছে মূল?

 

তিনি হলেন রাজাধিরাজ

মাকলুকাতের রব,

এ জীবনে মানতে হবে

তাঁহার হুকুম সব।

 

কিছু কথা 

শ্যামল বণিক অঞ্জন 

আছো যতো শিশু কিশোর ছোট্ট সোনামণি

শোন আমার কিছু কথা মন দিয়ে এখনি!

 

কেউ করো না পালন তোমরা খাঁচায় বনের পাখি

বনের পাখি বনেই মানায় দেখলে জুড়ায় আঁখি!

 

মনের সুখে উড়বে ওরা মুক্ত আকাশ পানে

ভোর বেলাতে ভাঙবে যে ঘুম মিষ্টি পাখির গানে!

 

গাছে গাছে বাঁধবে বাসা হবেও ডিম, ছানা

কেউ করো না রুদ্ধ এসব মেনো নিষেধ মানা।

 

 

হেমন্ত

জানে আলম 

নিসর্গকে লাগছে ভালো

দেখিনি আর এমন তো?

গন্ধরাজে হেসে বলে

এসে গেছে হেমন্ত।

 

পাকা ধানের হাসি দেখে

স্পন্দিত হয় সকল প্রাণ,

কোথা থেকে ছাতিম ফুলের

আকুল করা আসছে ঘ্রাণ।

 

এসো আবার কাব্যে ফিরি

নতুন করে সাজাই মন,

সত্য সুখের শুভ্রতাকে

করি বুকে আলিঙ্গন।

 

মুগ্ধ মধুর শেষ বিকেলের

সোনালী রোদ মেখে গায়,

কাব্যালয়ে আছি আমি

আমাকে কে খুঁজে পায়?

 

আমার মনে আজকে নতুন

জাগছে মোহ জাগছে ঘোর,

কেউ আমাকে ডাক দিও না

ডাকছে আমায় নতুন ভোর।

 

বাঘের ছানা 

আনোয়ারুল ইসলাম 

বাঘের ছানা বাঘের ছানা 

ডোরাকাটা গা,

মানুষ দেখে করো কেন-

মুখটি তোমার হা?

 

আমি তোমায় ভালোবাসি 

গাঁয়ে চলে আয়,

খেলবো মাঠে লুকোচুরি 

গাঁয়ের শীতল বায়।

 

মাছ ভাজা মাংস তাজা 

খাবো মুরগির গোস্

বন বাদাড়ে ফুল বাগানে 

ঘুরবো সদাই দোস্। 

 

ঘুরবো হাটে মাঠে ঘাটে 

ঘুরবো লোকালয়, 

সবাই তোমার বন্ধু হবে 

নেই তো কোনো ভয়।

 

আমরা আসলে

নাঈম মাহমুদ সোহাগ

আমরা আসলে বুঝি না

চিনেও চিনি না,

সুন্দর সঠিক ঠিকা না।

 

আমরা আসলে খুঁজি না

ভেবেও ভাবি না,

ভালোটা মানতে চাই না।

 

আমরা আসলে বোকা

তাই খেয়ে যাই ধোঁকা,

মনেতে ভুলের পোকা।

 

হেমন্তের সকাল 

মুস্তফা মানিক

শিশিরকণা বাঁধছে দানা

আমন ধানের ডগায় আজ,

দুচোখ জুড়ায় ভোরের ছবি

হালকা আলো মায়ার সাজ।

 

কচিপাতার ফাঁকে ফাঁকে

মিষ্টি রোদের হাতছানি,

পাখির ডাকে মুগ্ধ হৃদয়

বিলীন মনের সব গ্লানি।

 

ভোর সকালে পাখির মেলা

খেলছে তারা দলবলে,

গাঁয়ের কৃষাণ যাচ্ছে ক্ষেতে

মন ভরে তার ফুলফলে।

 

 

শিশিরভেজা ধানের ছবি

মনের কোণে ঢেউ তুলে,

একটুখানি হিম বাতাসে

দুঃখ-ব্যথা যায় ভুলে।

 

চুপেচুপে সূর্য এসে

বুকের সাথে বুক মেলায়,

ঘাসের কোলে ফড়িং নাচে

মেতে উঠে ঝি খেলায়।

 

দূর্বাঘাসে শিশির মেলা

পাখির কূজন মিষ্টি খুব,

সূর্য কিরণ চোখধাঁধানো

দেখতে লাগে অপরূপ।

 

 

স্বপ্নকুঁড়ি 

গোলাম আযম 

খুব আদুরের স্বপ্নকুঁড়ি 

গাছের শাখায় ফোটে, 

সুবহে সাদিক হওয়ার আগে 

শয্যা ছেড়ে ওঠে।

 

কলমিলতা ঝিলের ধারে 

পুবাল হাওয়ায় দোলে,

আধো আধো বোলে কুঁড়ি

হাসে মায়ের কোলে।

 

নরম দেহে মৃগনাভির

গন্ধ শরীর জুড়ে, 

মন উচাটন হয় যে আমার 

থাকে যখন দূরে!

 

রঙধনুর সাত রঙের কুঁড়ি

সাজাই মনের দেয়াল, 

আদর্শবান মানুষ সে হয়

রাখি সেদিক খেয়াল।

 

ইলিশ

আসাদ সরকার

পদ্মা নদীর ইলিশ খেতে

ধরলো খোকা বায়না,

হাট বাজারে কম টাকাতে

ইলিশ কিনতে পায় না।

 

ইলিশ ইলিশ করে খোকা

করছে শুধু কান্না,

পুঁটি ভেজে শান্তনা দেয়

হচ্ছে ইলিশ রান্না।

 

পুঁটি মাছে পায় না খোকা

ইলিশ ভাজার গন্ধ,

দাদার দেশে ইলিশ খাবে

খোকার খাওয়া বন্ধ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ