শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

চারপাশে বাঘ সিংহ শৃগাল

 à¦†à¦®à¦¾à¦¦à§‡à¦° চারপাশে বাঘ, সিংহ, শৃগাল এবং গর্দভের পদচারণা। দূরের দৃশ্যটা কেমন? চিত্রটা প্রায় একই রকম, তবে দূরের পশুগুলো আকারে বড় এবং অধিকতর শক্তিশালীও বটে। প্রশ্ন হলো, আমরা তো জঙ্গলে বসবাস করি না; তাহলে মনুষ্য সমাজে বাঘ, সিংহ, শৃগাল ও গর্দভের প্রসঙ্গ আসে কেমন করে? আপাত যৌক্তিক মনে হলেও এমন প্রশ্নের জবাব আছে। অবয়বে মানুষ হলেও চরিত্রে কি তারা বাঘ, সিংহ, শৃগাল কিংবা গর্দভ হতে পারে না? পারে এবং বর্তমান সভ্যতায় বেশ ভালোভাবেই পারছে। বড় বড় কিছু দেশের নেতারা তো এখন বাঘের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। অঞ্চলভিত্তিক শক্তিশালী দেশগুলোর নেতারা অবতীর্ণ হয়েছেন ধূর্ত শৃগালের ভূমিকায়। তারা অঞ্চলের ছোট ছোট দেশগুলোর ওপর খবরদারি করতে চান, তবে তারা বাঘও নন, সিংহও নন। এদের লক্ষ্য বাঘ ও সিংহের আশীর্বাদ। আশীর্বাদ লাভে চাতুর্য চর্চায় তাদের ক্লান্তি নেই। বর্তমান বিশে^র এই যে বাতাবরণ, তাতেই গড়ে উঠেছে ভূরাজনীতির এক বিশেষ মানচিত্র। সিংহ বাঘ নয় কেন, কারণ বাঘের চাইতে সিংহের  বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী আলাদা। এখন সিংহ যদি তার বৈশিষ্ট্য হারাতে থাকে, তাহলে সে বাঘের কাছাকাছি চলে আসে। পার্থক্যটা যত কমে আসে, বাঘের সিংহ হওয়ার লোভটা তত প্রবল হয়। বর্তমান সভ্যতায় বড় বড় দেশগুলোর মধ্যে আমরা সেই প্রবণতাই লক্ষ্য করছি। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়ার পাশে সিংহ ও বাঘকে দাঁড় করালে ভাবনাটা কেমন হয়? খুব কি অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়? বড় বড় দেশ আরও আছে, আঞ্চলিক শক্তি আছে। বনের বিশেষ বিশেষ ঘরানার পশুর মধ্যেও কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। তবে দিন শেষে পশু পশুই থেকে যায়। তারা কখনো মানুষ হয় না। এখানে একটি দুঃখের প্রসঙ্গ চলে আসে। মনুষ্য সমাজের গাধা কারা? বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর মানুষকে গর্দভ বলে বিবেচনা করছেন মনুষ্যরূপী সিংহ ও বাঘরা। এর একটা দায় বর্তায় দরিদ্র দেশগুলোর নেতাদের ওপরও।

বাঘ ও সিংহ জঙ্গলে সেরা হলেও তারা কখনো মানুষ হতে পারে না, এখানে রয়েছে একটা সীমাবদ্ধতা, যা অতিক্রমযোগ্য নয়। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলোÑঅধপতিত মানুষও শুধু বাঘ, সিংহ, শৃগাল কিংবা গাধা নয়; তার চাইতেও নিকৃষ্ট হতে পারে। বর্তমান সভ্যতাই তার বড় প্রমাণ। ভূমিপুত্র ফিলিস্তিনীদের নিজভূমিতে যেভাবে নিপীড়ন করা হচ্ছে, উদ্বাস্তু করা হচ্ছে, যেভাবে ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ করছে; কিংবা নিজ দেশে ইউক্রেনীয় জনগণকে যেভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, জনপদ ধ্বংস করা হচ্ছে, তা কি কোনো মানুষ কিংবা মানব নেতার পক্ষে সম্ভব? তাহলে সম্ভব হলো কেমন করে? প্রশ্ন জাগে, এখন যারা বিশ্ব নেতা তারা কি ব্যাঘ্র ও সিংহের চাইতেও নৃশংস কিংবা আরও ভয়ানক। মানুষ এতটা নীচে নামে কেমন করে? নীচে নামতে হলে তো গুণাবলী কিংবা বৈশিষ্ট্য হারাতে হয়। তাইতো বলা হয়-নীতি, নৈতিকতা ও ন্যায়বোধ হারালে মানুষ আর মানুষ থাকে না। বৈশিষ্ট্যবিহীন অবয়বের এইসব মানুষদের শাসনের কারণেই আজ পৃথিবীর এবং মনুষ্য সমাজের এই দুর্দশা। সর্বত্র জুলুম, বঞ্চনা, নিষ্ঠুরতা ও ধ্বংসের দৃশ্য। শুধু মানব সমাজ নয়, এদের শাসনে প্রকৃতি ও জীবনবৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন। এসব দাম্ভিক নেতারা মানুষ কিংবা প্রকৃতিÑকারোই বন্ধু নন। এরা নিজেদের ধ্বংসের কারিগর হিসেবেই প্রমাণ করছেন।

ক্রেমলিন যখন বলেন, বাইডেন আগুনে ঘি ঢালছেনÑতখন তারা আসলে কি বলেন? তারা শান্তির কথা বলেন না। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন হঠাৎ করেই নীতিতে পরিবর্তন আনলো যুক্তরাষ্ট্র। এবার রাশিয়ার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর অনুমতি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এতে বেশ চটে গেছে মস্কো। এখন ক্রেমলিনের কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, আগুনে ঘি ঢালছে যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সহ¯à§à¦°à¦¤à¦® দিন পূরণ হয়েছে ১৯ নবেম্বর মঙ্গলবার। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা পেয়েছে কিয়েভ। তবে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে তেমন একটা সুবিধা করতে পারেনি ইউক্রেন। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালানোর অনুমতি চেয়েছিল ইউক্রেন। তাতে রাজি ছিল না যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত রোববার এক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, রাশিয়ার বেশ গভীরে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রথম হামলাটি চালাবে ইউক্রেন। তবে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার দিক বিবেচনায় এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সূত্রটি। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলতে নারাজ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভøà¦¾à¦¦à¦¿à¦®à¦¿à¦° জেলেনস্কিও। রোববার সন্ধ্যার ভাষণে তিনি বলেছেন, ‘আজ অনেক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার অনুমতি পেয়েছি। তবে মুখের বুলি দিয়ে হামলা চালানো হয় না। ঘোষণা দিয়ে কেউ হামলা চালায় না।’ যুক্তরাষ্ট্র এমন একটা সময়ে সিদ্ধান্ত নিল, যখন রাশিয়ার হয়ে উত্তর কোরিয়ার সেনাসদস্যদের ইউক্রেনে মোতায়েন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে কিয়েভ। এনিয়ে শুধু ইউক্রেন নয়, উদ্বেগে রয়েছে ওয়াশিংটনও। এটাই বর্তমান সভ্যতার ভূ-রাজনীতি। বাঘ-সিংহের এই লড়াইয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে ইউক্রেন। ধ্বংস হবে জনপদ, নিহত হবে নারী-শিশু ও সৈনিক। তাতে কি, যুদ্ধটা যে পরাশক্তির জন্য খুবই জরুরি। যুদ্ধটা ইউক্রেনের মাটিতে হলেও, এটা আসলে ইউক্রেনের যুদ্ধ নয়। অথচ তারাই জ¦à¦²à¦›à§‡, মরছে। মানুষগুলোর যন্ত্রনা ও মর্মবেদনা সভ্যতার ব্যাঘ্র এবং সিংহরা বুঝবে না। যন্ত্রনা ও মর্মবেদনা বুঝতে হলে তো মানুষ হতে হয়। দাম্ভিক ব্যাঘ্র ও সিংহরা মানুষ হবে কেমন করে? প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের পর তারা হয়তো তৃতীয় বিশ^যুদ্ধের দিকেই ধাবিত হবে।

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে বাইডেনের অনুমোদনের খবর সামনে আসার পর এনিয়ে মুখ খুলেছে মস্কোও। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ঘটনা সত্যি হলে এটা স্পষ্ট যে, ওয়াশিংটনের বিদায়ী প্রশাসন ‘আগুনে ঘি ঢালতে’ এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাবে। পেসকভ আরও বলেন, এ নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøà¦¾à¦¦à¦¿à¦®à¦¿à¦° পুতিন গত সেপ্টেম্বরেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ বেধে যাবে। আর হামলা হলে তার দায় শুধু ইউক্রেনই নয়, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়া দেগুলোর ওপরও বর্তাবে। এখন চারিদিকে বাঘ ও সিংহের গর্জন। এমন বাতাবরণে পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে কেমন করে? বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির উপ-প্রধান ভøà¦¾à¦¦à¦¿à¦®à¦¿à¦° ঝাবারভ। 

তার মতে, ওয়াশিংটনের এমন সিদ্ধান্তের ফলে ‘তৃতীয় বিশ^যুদ্ধ’ বেধে যেতে পারে। আর রাশিয়ার ফেডারেশন কাউন্সিলের সদস্য আন্দ্রেই কলিশাস বলেছেন, পশ্চিমাদের সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্র হিসেবে ইউক্রেন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। বার্তা পাওয়া গেল দু’টি- একটি তৃতীয় বিশ^যুদ্ধ, অপরটি ইউক্রেনের ধ্বংস। কী চমৎকার আমাদের বিশ^ব্যবস্থা! এতো কর্মযজ্ঞ, এতো শিল্প কারখানা, এতো কৃষিপণ্য, এতো বিজ্ঞান প্রযুক্তি, এতো বিলাস দ্রব্য, এতো মারণাস্ত্র, এতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা; এতকিছুর পর পরাশক্তির অন্তিম উপহার হলো- ফিলিস্তিন ও ইউক্রেনের ধ্বংস এবং তৃতীয় বিশ^যুদ্ধ! ফলে প্রশ্ন জাগে, এই সভ্যতা ও ভূ-রাজনীতি দিয়ে মানুষ কী করবে? বাঘ-সিংহের বদলে মানুষের নেতৃত্ব কি মানুষ পেতে পারে না? এ জন্য তো আকাংখা প্রয়োজন, প্রয়োজন স্বপ্ন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষের ছোট ছোট যে অজ¯à§à¦° দেশ, সেই সব দেশের মানুষগুলোর স্বপ্ন আছে- কিন্তু সেই পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট শাসক। কর্তৃত্ববাদী এই শাসকদের আছে মিথ্যা বয়ান, আছে ভয়ের আয়না ঘর এবং আছে উন্নয়নের মহাপ্রতারণা। বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা দৃপ্ত শপথে স্বপ্নের রাজপথে লড়াই করেছে। পরাভূত হয়েছে ফ্যাসিবাদ। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মারা এখনো প্রতিবিপ্লবের স্বপ্ন দেখছে। অনুশোচনা ও আত্মশুদ্ধির পথে তারা হাঁটছে না। মসনদ ফিরে পেতে তারা মোদি কিংবা ট্রাম্পের তস্যদাস হতেও প্রস্তুত। দেশ ও জনতার বিরুদ্ধে গিয়ে কি কখনো দেশ শাসন করা যায়?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ