শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

সব সরকার সরকার নয়

একটি প্রতিবেদন আমাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। প্রতিবেদনটির শিরোনাম ‘সৌদি-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি : প্রবণতা মূল চ্যালেঞ্জ এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা’। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয়ে নীতিগবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জের সহায়তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য যে, কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে এবারই প্রথম কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় à§« জানুয়ারি রোববার ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলান বলেন, বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের জন্য চেষ্টা করেও পারেনি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল-গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকো। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদল ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন দফায় বাংলাদেশে এলেও স্বাগত জানানো হয়নি। এরপরও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ¦à¦¾à¦²à¦¾à¦¨à¦¿ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আরামকো বাংলাদেশে তেল শোধনাগার নির্মাণে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘আরামকোর প্রতিনিধি দল যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রী, সচিব ও আমলাদের কাছে যায়Ñতখন তাদের পথ আটকে দেওয়া হয়। কারণ কিছু লোক ছিলেন যারা শুধু নিজেদের স্বার্থটাই দেখেছেন। কিন্তু এখন আমরা অতীত নিয়ে, কথা বলব না, আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলব।’
সৌদি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ভেবে দেখার মতো। তিনি শুধু অভিযোগ করেননি, বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও প্রকাশ করেছেন। এখানে বিবেচনার বিষয় হলো, সৌদি বক্তব্যকে বাংলাদেশ কোন দৃষ্টিতে দেখছে। একই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছি যে, আমাদের দেশ সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগবান্ধব, প্রকৃতপক্ষে এটি সবসময় সত্যি নয়। বর্তমান সরকার অবস্থার পরিবর্তন করার চেষ্টা করছে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য আমরা ব্যবসা সহজ করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ এখন যদি সৌদি বিনিয়োগকারীরা আসেন তবে ভালো একটি পরিবেশ দেখতে পাবেন বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য থেকে উপলব্ধি করা যায়, সৌদি রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকে তারা গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন এবং আরামকোর বিনিয়োগের ব্যাপারেও বাংলাদেশ আগ্রহী। সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, আরামকো বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী। সংস্থাটি বঙ্গোপসাগরে একটি তেল শোধনাগার স্থাপন করতে চায়। এখানে একটি তেল শোধনাগার থাকলে এবং তেলজাতীয় পণ্য উৎপাদন করলে সেখান থেকে বাংলাদেশও এই অঞ্চলে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা বা দাম্মামের মধ্যে একটি সমুদ্র পথ তৈরি করতে পারি, তবে সেটি বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। এই তেল শোধনাগারের পণ্য চীন, ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাঠানো সম্ভব।’
এখন প্রশ্ন জাগে, পরিবর্তনের এমন সুযোগ হাসিনা সরকার প্রত্যাখ্যান করলো কেন? আরামকোর মত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ¦à¦¾à¦²à¦¾à¦¨à¦¿ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রস্তাব কি কোনো দেশপ্রেমিক সরকার প্রত্যাখ্যান করতে পারে? এমন বাস্তবতায় বিবিসিতে সিরাজুর রহমানের সাথে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের বিষয়টি মনে পড়ে। বাংলাদেশের মানুষকে শাস্তি দেওয়ার জন্যই হয়তো হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে তিনি  সমর্থ হয়েছেন বৈকি। এই লক্ষ্যেই হয়তো তিনি দুর্নীতি, লুন্ঠন, গুম, হত্যা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বেছে নিয়েছিলেন তার শাসনামলে। এ কারণেই হয়তো রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, সব সরকার সরকার নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ