শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

কবিতা

সাঈদ

আবদুল হাই শিকদার

 

সাঈদ সাঈদ বলে ডেকে ডেকে পাড়া মাত করি,

ও পুত্র, বাপ আমার, ফিরে আয় আগ্নেয় মশাল ধরি।

পাললিক দেশ আজ পৃথিবীর কসাইখানা,

হাজার লাশের উপর ক্রূর হাসে পিশাচের ডানা।

তবু তোর রক্তে রেঙে ঘরে ঘরে জেগেছে তরুণ,

গোরগুলো লালে লাল চায় শুধু ড্রাকুলার খুন।

 

হেয়াৎ মামুদের দেশে বাবনপুর গ্রামÑ

এ গ্রাম আজ বাংলাদেশ, কোটি কোটি মানুষের নাম।

রাষ্ট্র উদ্ধারে আজ আসমুদ্র স্বদেশ ব্যাকুল,

ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে ফুটবেই পলাশ-শিমুল।

 

এ ভূমির সবাই আজ তোর মতো সাঈদ সাঈদ,

সম্মিলিত স্বপ্ন চায় রাহুমুক্ত পবিত্র ঈদ।

ফিরে আয় হে সন্তান, ফিরে আয় শূন্য এ বুকে —

অমানুষ উৎখাত করে মরি ফের সগৌরব সুখে।

১৯ জুলাই ২০২৪

 

সমূহ সঙ্কটে

মোশাররফ হোসেন খান

 

আমরা দাঁড়িয়ে আছি সমূহ সংকটপূর্ণ এক উপত্যকায়।

অধিকাংশই এখানে আলো-আঁধারের পার্থক্য বুঝতে পারে না।

এটা না বোঝার কারণে কত জনপদ বিরান হয়ে গেছে।

কত নদীর গতিপথ রুদ্ধ হয়ে গেছে।

কত সাগর-উপসাগর মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। 

 

এই মৃত্যু উপত্যকায় কারোর পদছাপ যেন না পড়ে

সেজন্য অগ্রিম দুঃসংবাদের খবরটুকু বাতাসে উড়িয়ে দিলাম। 

যাদের বোঝার তারা বুঝুক।

 

আমাদের উত্তর প্রজন্মের জন্য এই মৃত্যু উপত্যকা কোনোক্রমেই বাসযোগ্য হতে পারে না।

তাহলে আমরা ঘাম ঝরিয়ে এতকাল কি করলাম!

 

হতাশার ধ্বংসাবশেষ থেকে

ফিনিক্স পাখির মতো ডানা ঝাঁপটায় আশা ও সম্ভাবনার ঈগল। 

তাহলে কি এখনো খোলা আছে অলৌকিক কোনো দুয়ার!

প্রলয়পূর্ণ প্রত্যুষের দিকে তাকিয়ে আছি অনিমেষ!

 

বিশ্বাস মানেই তো জীবনের  অনিন্দ্য সুন্দর অত্যুজজ্বল এক পৃথিবী!

 

তাহলে আর দেরি কেন?

 

হে  আলোর প্রত্যাশী---

জানালা খুলে দাও--- আলো আসবে।

দরজা খুলে দাও--- মানবতা আসবে...!

 

আমাদের সংগ্রাম

হারুন ইবনে শাহাদাত

 

আমাদের সংগ্রাম শুরু হয়েছে সেই কবে

পেছনের আক্রমণ সামনের এবং ডান-বাম

চারদিকের ষড়যন্ত্রের কুটিল তীব্র হাসি

হেসেছিল সেই কবে জান্নাত থেকে

বিতাড়িত অপমানিত ইবলিস

প্রতিহিংসার চ্যালেঞ্জ প্রতিনিয়ত

ছুঁড়ছে অগ্নিবানের মতো।

 

তারপর আদি পিতা আদম মা হাওয়া

রণক্ষেত্র এই পৃথিবী প্রতিপক্ষ শয়তান

পিতার পথ ধরে আমরা এবার রণবীর

চলছে সংগ্রাম চির উন্নত করে শির,

সংগ্রামী পুত্র হাতে আধুনিক অস্ত্র

বাক্যবান আলোয় দীপ্তিময়

প্রত্যয় একটাই ইবলিসের পরাজয়।

 

জাগছে মানুষ 

গাজী গিয়াস উদ্দিন 

 

কুমড়ো ফুল রঙ বাহারি জিন্দেগি নির্ঝঞ্ঝাট, 

মাঠে মাঠে বসিয়েছো  রস মিলনের হাট।

আমার ঘামে তোমার ঘামে তফাত অনেক ফুল, 

বলবে কি চুপিসারে - কোথাও আমার ভুল?

এ দুনিয়ায় মহামায়ায় হয়েছি বেভুল, 

পথ হারানোর পথটা তুমি দেখাবে কি ফুল!

 

শুধাও কুমড়ো ফুল 

বৈষম্য আর ফ্যাসিবাদে বিপদ সংকুল, 

মনুষ্যত্ব বিকিয়ে ওদের পরিচয় প্রতুল। 

 

জাগছে মানুষ কবিতারা জাগছে কুমড়ো ফুল, 

অপশক্তি যাচ্ছে নিপাত -দেবে ষোলআনা মাশুল।

 

প্রতিবাদ

মোহাম্মদ নূরুল্লাহ

 

যুগে যুগে যতো হয়েছে জয়

সংখ্যায় নয়, ঈমানের বলে

বলীয়ান হয়ে মুছলিম দিয়েছে পরিচয়।

 

সে মুছলিম জেগে ওঠো আরবার!

জানান দাও জগত মাঝে,

তাকবির ধ্বনি মুখে নিয়ে আল্লাহু আকবার।

 

মিথ্যাচারের কবর রচনা করো

সত্যের জয়ধ্বনি করো

জাগিয়ে তোলো বিশ্বকে ফের

আমরা যে এক আত্মার।

 

চুপটি করে আর থেকো না

মুখটি তব লুকিয়ে রেখো না

নেকাব তুলে আওয়াজ করো

আল্লাহু আকবার।

 

যে বা যারা করে অপমান 

আমার দেশের পতাকা কিংবা প্রতীকের;

ছাড় পাবে না তারা কভু

জেনে রেখো জনে জনে।

 

পা চাটাদের হবে না যায়গা এ ভূখন্ডের মাঝে।

এ দেশের খেয়ে ও দেশের গান

জাতি নেবে না মেনে।

 

শূন্যতা

আজিজ বিন নুর 

 

ছায়াসুতোয় মন বেঁধেছে দাবি

বিষণ্ণতা হলেও দিতে হবে

এক জীবনে ঘর পুড়েছে কত

পথ গিয়েছে পথকে ছেড়ে কবে?

 

নিছক কুহক বোধের প্রাসাদ জুড়ে

ঘর করেছে ঘরের শূন্যতাতে

তার ভেতরে তোমার কফিন পূরী--

না রও তুমি কি শোক আমার তাতে?

 

হৃদয় তাঁতে শান বাঁধানো ফ্রেমে

উঠবে মকর যাক না যতই নেমে।

 

আয়নাঘর

আল মামুন রিটন

 

আয়নাঘরের ভেতর ভারি হয় দলবদ্ধ নিঃশ্বাস 

দেয়ালে লেখা রক্তবর্ণের দগ্ধ শব্দগুলো

কীসের সে দহন? কে রেখে গেছে সেই নিঃশ্বাস?

বুকের গভীরে সেই ক্ষতগুলো—শুধু রক্তের বার্তা নয়।

 

তারিখের পাতায় চোখ রাখলেই দেখি

কারা যেন সময়ের নীরব ছুরিতে কেটেছে  

অমোঘ রক্তের দাগ, ভীষণ স্পষ্ট ও তীক্ষ্ম সে দাগ।

দাগগুলো সময়ের নির্যাতনের প্রতিধ্বনি যেন

দেওয়ালজুড়ে লেখা আছে শব্দলুন্ঠনের অসংখ্য গল্প।

 

বাহিরে আলো ঝলমল রোদের দাপট

অথচ ভেতরে কাঁদছে মানুষ এবং অন্ধকার

কোনো জানালা নেই, নেই আলো কিংবা মুক্তি।

মনে হয় যেন, সেই অশ্রুদের রক্তাক্ত আর্তনাদ  

বাধা হয়ে পড়েছে কেবল এই আয়নার সামনে

কেউ সজাগ চোখে দেখছে লাল ইতিহাস 

আর আমরা, সেই ইতিহাসের প্রান্তিক সাক্ষী হয়ে  

দেখে যাই সেই নীরব, ভাঙা, নিঃশব্দ আগুনের ধোঁয়া।

 

নির্বাক কলম

নাসরিন আকতার আব্বাসী

 

চলেছে গুলি নির্বিচারে

ছররা, টিয়ার, হেলমেটে মোড়া

দানবের অবিবেচক,

নিষ্ঠুর লাঠির আঘাত 

রাজপথ, জনসমাগমে।

সাঈদের পেতে দেওয়া বিক্ষত বুক 

তুলেছে আলোড়ন, 

অপরিমেয় ভালোবাসার ঢেউ 

অন্দর আর সদরমুখো জন থেকে জনে।

তাজা লাশ পোড়ানোর

বিকট পৈশাচিকতা

জন্ম দিয়েছে কত মর্মস্পর্শী বারুদ কাব্যগাঁথা,

হৃদয় এফোঁড়ওফোঁড় করা জাগরণী গান।

 

অথচ তখনও -

আমার বিহবল কলমখানি

তুলেনি আওয়াজ, 

আঁকেনি কোন কালির আঁচড় 

সাদা কাগজের বুকে।

 

নিস্তব্ধ, বিমূঢ়, হতভম্ব সে

হারলো চলার গতি, হলো দিশেহারা

ইয়ামিন, ফায়াজের মতো 

আরো সহস্র সফল মুখের

অপলক চেয়ে থাকা, সঘন প্রশ্বাস

সাথে অগুনতি  অনুযোগের

ঘনায়মান, কুজ্ঝটিকায়। 

 

নতুন বিজয়

সাঈদুর রহমান লিটন

 

মাড়িয়ে যাওয়া গাছ,

অবহেলায় পদদলিত পথ,

অনুভূতিহীন সময়।

কেউ ভালোবেসে, স্নেহের সুধা নিংড়ে,

এক বসন্তে নতুন প্রাণ পায় গাছ।

ফুলের মিষ্টি গন্ধে মাখা,

হাসতে থাকা গাছে জয়ধ্বনি শোনা যায়।

বিজয়ের আনন্দে আত্মসাৎ,

উদ্বেলিত প্রাণ জেগে ওঠে নির্যাতিত পথে।

 

নতুন জীবন পাওয়া গাছে,

ফসলের আকাঙ্খা উন্মোচিত।

ঝিকঝিক করে চাঁদ ওঠে চোখে,

অতীতের কষ্ট ভুলিয়ে, হাসি ফিরে আসে।

বিজয় এসে হাত বাড়িয়ে,

সহানুভূতির সুরে হাসতে থাকে পাশে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ