শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

কবিতা

এই আলো ফুটবেই

খুরশীদ আলম বাবু

 

আলো ফুটবেই ভয় কি বন্ধু?

মন ক্যানো দিশেহারা

তোমার আমার বিশাল আকাশে

জ্বলছে কতনা তারা?

শোষণে পীড়িত শত মজলুম মন

হারাইনি পথ-দিবস রজনী

করছে অন্বেষণ-

আলোহীন পথে আলোময় স্রোতধারা-

হলো ঝরনার জ্যোতি

মিছিলে মিছিলে হোক আজ বন্ধন-

থামবে না তার গতি- 

জেগেছে নীরব উদাস ছন্নছাড়া।

তবুও তারারা জ্বলছে

কান পেতে শোন মুক্তির কথা বলছে-

যদিও সামনে নিষ্প্রাণ নদী

তবুও পাহাড় টলছে।

হারাবার কিছু নেই-

জেনে রেখো এই

পাহাড় যতটা হোক না কঠিন

তোমার চোখে মুক্তির সঙ্গীন

উঁচিয়ে উঠছে-আমরা শুনেছি তার গর্জন।

আশার কিনারে দাঁড়িয়ে,

এসেছ যখন রাজপথ জুড়ে

আশারা যাবে না হারিয়ে।

তপ্ত তুহিন শেষ ব্যারিকেড মাড়িয়ে

এই আলো ফুটবেই।   

 à¦šà§‡à¦¤à¦¨à¦¾ আমার উত্তাল হলো পল্টন থেকে

মুক্ত চলন বিলে

মুক্তির ডাক দূর দিগন্ত ছাড়িয়ে

পৌঁছে যাবোই মকসুদে মঞ্জিলে।

 

কবির নীরবতা 

জসীম উদ্দীন মুহম্মদ

 

যে কবি সবসময় নীরব থাকতে ভালোবাসেন

কেন জানি না হঠাৎ সেই কবির

একটা কবিতা আয়নামহলে ঢুকে গেছে

আগে যা-ও দুয়েকটি শব্দ, বাক্য দ্রোহ করতো

অথবা কানা কয়েনের মতন বায়না ধরতো

এখন বাপদাদার নামসহ বেবাক ভুলে গেছে!

 

অবশ্য কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন,

এসব কাপুরুষ কবির অকবিতা বলে কথা!

তাকে তো এমন তো হবেই... হতেই হবে!

 

তবে এই অভিযোগের জবাব জানা যায়নি

মহাশয় কবি আগে যেমন নীরব থাকতেন

এখনও তিনি সেই আগের মতো নীরবই আছেন!

 

কুয়াশার বাঁধন

আর. কে. শাব্বীর আহমদ 

 

আমি চলে গেলে 

কারো কোনো ক্ষতি হবে না

আমার আশায় কেউ দিন গুনবে না

পৃথিবী আগে মতোই র'বে বহমান

আমার জন্য ঝরবে না নোনাজল অনুক্ষণ! 

 

আমার প্রিয়জনেরা আমায়

ভুলে যাবে দু দিনের পর

স্বার্থের মোহজাল বুনবে নিরন্তর! 

 

আসা আর যাওয়া পৃথিবীর 

নিঠুর বিধান 

ক্ষণিকের প্রীতি-প্রেম সে তো

কুয়াশার বাঁধন! 

 

বেঁচে থাকার ঘ্রাণ 

মুহাম্মদ রফিক ইসলাম

 

 

রাত্রির গহিন গভীরে কেউ কাগজ কুড়ায়

ঘুড়ি উড়ে যায় মেঘের কাছাকাছি 

চোখের দুয়ার খুলে থইথই জলে

ভেসে যায় স্রোত ও ঢেউয়ের ঠোঙা

মড়ার পাহারায় থাকা বুকের আগুন

নিঃশ্বাসের শ্বেতকণিকা পোড়ায় 

ছাইগুলো জড়ো হয় নিদারুণ পাঁজরে

নিঃসঙ্গ ডাহুকের কষ্টের রঙে

নৈঃশব্দ্যে মুছে যায় দুঃখী সন্ধ্যার ঘ্রাণ

 

জল ও আগুনের ভেতর ডুবেও মানুষ

টিকে থাকে বেঁচে থাকার সংগ্রামে।

 

অহিতৈষী

হাফিয রেদওয়ান

 

ঘোড়া রোগ গাছে আক্রান্ত হয় না...

সর্বাঙ্গে অযাচিত ব্যথার অনুভব

দমে না ক্ষান্ত

বাকল শিকড় বটিকা সেবন করে

তারা নীতিবাক্য কথন উপদেশ দেয়।

 

গাছের গোড়া কেটে কেটে

বস্তা ভর্তি লালপাতা রামছাগলকে খাওয়ায়,

পরিশুদ্ধ নির্মল বাতাস গ্রাসের দাবানলে

উদ্ভিদ, গুল্মলতা

হুমকির মুখোমুখি পথচলে একসাথে ।

 

আম্মা যখন পথে হাঁটেন 

সোলেমান রাসেল 

 

আম্মা যখন পথে হাঁটেন

পথের সবগুলো কাঁটা পা'য়ে গেঁথে তাঁর দুঃখফুল ফুটে,

আমরা তাঁর পিছনে পিছনে হেঁটে যাই

সুখফুলগুলো কুঁড়ে  

 

আর যখন আমাদের শরীরের দিকে তাকান

ছেঁকে নেন সকল অসুখ যন্ত্রণা

আমরা আরোগ্য লাভ করি নিরাপদভাবে। 

 

আজ আমরা যখন স্বপ্ন দেখি

আমাদের চোখে তাকান তিনি! 

আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে-

আমাদের মতোন।

 

অথচ আমরা তাঁর জীবন খেকো আমাদের দুঃখ যন্ত্রণাগুলো দেখি না।

 

প্রসূন ভালোবাসা

নুশরাত রুমু 

 

সময়ের সিঁড়িতে আর্তনাদ শুনি গোধূলিবেলার,

রক্তে রঞ্জিত তির্যকরেখা তবু 

স্বপ্ন দেখায় সত্যের উজ্জ্বলতায়।

পরাগের খোঁজে পতঙ্গের অভিযান শেষ হয়

অসহায় মায়াবী রাতের সংগীতে

শিশিরের কান্না ঠেলে তারার 

মালা জ্বলে ঈর্ষাতুর চোখে,

কামিনীর গন্ধ বুকে নিস্তব্ধ 

নিশুতির গতিহীন পথচলা থামে।

 

ভোরের আলোয় ঘুমচোখে দেখি

শুকতারার প্রস্থান।

গোমড়ামুখের বৃত্তবলয়ে আর বাঁচা নয়,

এক আকাশ প্রসূন ভালোবাসায় 

আলোকিত করি তমসা হৃদয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ