শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

কবিতা

নতুন রূপের সাজ
হুমায়ুন আবিদ

সূর্যমামা ঘুমিয়ে গেছে শীত এসেছে শীত
সবুজবনে পড়ে গেছে পাতা ঝরার গীত।

সরষেক্ষেতে হলুদ চাদর চোখ জুড়ানো পট
ঘাটে থাকে নৌকা বাঁধা শুকনো নদীর তট।

হিমবাতাসে দুলে ওঠে আমন ধানের মাঠ
শিশির বসায় ঘাসের বুকে মুক্তোকণার হাট।

জোয়ান-বুড়ো খোঁজে চলে গরম কাঁথার উম।
খেজুর রসের মৌ মৌ গন্ধ পিঠা খাওয়ার ধুম।

কুয়াশাতে যায় না দেখা একটুখানি দূর
গাছে বসে ঝিমায় পাখি দেয় না গানের সুর।

পুকুর-নদে মাতে না আর দস্যি ছেলের দল
শীতের ভয়ে ছোঁয় না তারা ঠান্ডা বরফ জল।

শীতের দিনে জড়োসড়ো ভাল্লাগে না কাজ
তবুও শীতে ফুটে ওঠে নতুন রূপের সাজ।

আমার সাথে
শাহীন খান

হিম কুয়াশায় ঢাকা আকাশ, গ্রাম
শিশির ঝরে টুপটুপাটুপ কী যে
ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে অবিরাম
কাঁপছে সবাই, কাঁপছি আমি নিজে।

পাখিরা সব গান ভুলেছে গান
ফুল ফুটেছে উঠোন জুড়ে আজই
চারদিকেতে মৌ মৌ তার ঘ্রাণ
মন ভুলেছে লেখাপড়া, কাজ-ই।

দুপুরেতে হয় না নাওয়া আমার
ইচ্ছে করে লেপ দিয়ে ঘুম পড়ি
দিনের বেলায় স্বপ্ন দেখি বাহার
আমার সাথে ঘুরছে চাঁদের পরী।

হুতুম পেঁচা
সরকার জাহিদুল ইসলাম

হুতুম পেঁচা হুতুম পেঁচা
কে দিয়েছে মার?
সারাক্ষণই মুখটা কেন
এমন তোমার ভার?

না ঘুমিয়ে সারাটা রাত
থাকো তুমি জেগে
কার ওপরে বলতো ভাই
আছো এমন রেগে।

তোমার না কি বুদ্ধি অনেক
বইটা কখন পড়ো!
রাগের মাথায় খাওয়া-দাওয়া
কখন কি যে করো?

না কি তোমার নাইকো দাঁত
হাসো নাকো তাই
এই দেখ না পোকলা দাঁতেও
আমি হেসে যাই।

লাল নীল প্রজাপতি
রফিক রইচ
ডিম থেকে শুঁয়াপোকা
পরে হয় গুটি,
গুটি কেটে বের হয়
লাল প্রজাপতি।

রঙিন ডানা তার
মাথা ভরা চোখ,
তিন জোড়া পদ তার
জানে সব লোক।

দিনভর ছুটোছুটি
রাত হলে চুপ,
ফুলে ফুলে শুঁড় দিয়ে
খায় মধু স্যুপ।

লাল নীল প্রজাপতি
রুপ পেল কৈ,
খোদা ছাড়া কার কাছে?
দেখো পড়ে বই।

খোকার খুশি
শামীম খান যুবরাজ
টুকুর টুকুর ঠোকর মারে
মোরগ ছানা,
থালার মাঝে ছড়িয়ে আছে
হরেক দানা।

ডালের দানা চালের দানা
ঠোকর দিতে নেইকো মানা
মজা করেই খাচ্ছে খানা
টুকুর টুকুর
মোরগ ছানা।

এসব দেখে খোকা খুশি
সেই খুশিতে হাসছে খোকা
ফোকলা দাঁতে,
বাড়ি জুড়ে খুশির আমেজ
লাগছে তাতে।

মায়ের হাসি
শারমিন নাহার ঝর্ণা
আমার মায়ের মুখের হাসি
দেখলে ভরে বুক,
আমার মায়ের মুখের হাসি
আমার সকল সুখ।

আমার মায়ের মুখের হাসি
হৃদয় শীতল করে,
আমার মায়ের মুখের হাসি
শান্তি আনে ঘরে।

আমার মায়ের মুখের হাসি
সারা জনম থাকুক,
আমার মায়ের মুখের হাসি
আমায় ভালো রাখুক।

ভাঁপা পিঠা
শাহজালাল সুজন
সন্ধ্যা হলেই গ্রামের বাড়ি
পিঠার ঘ্রাণে ভাসে,
হুডি গায়ে খোকা খুকি
মনের সুখে হাসে।

ঝিরি ঝিরি ঠাণ্ডা হাওয়া
গায়ে লাগে শীত,
পিঠা তৈরির ফাঁকে চলে
গাঁও গেরামের গীত।

খোকা খুকি দাদুর পাশে
গল্পে ছড়ায় আলো,
খেজুর গুড়ের ভাঁপা পিঠা
খেতে লাগে ভালো।

ঝিলমিল তারা ফুলকলিরা
জাগে চাঁদের সাথ,
ভাঁপা পিঠার উষ্ণ ধোঁয়ায়
দেয় কাটিয়ে রাত।


ভীষণ শীতে
জয়সেন চাকমা
ভীষণ শীতে হাড় কাঁপানো,  
কাঁপতে থাকে দেহ,  
দুঃখের ব্যথা কেউ বুঝে না,  
পাইনি কারোর স্নেহ।  

ভীষণ জ্বালা, ক্ষুধার জ্বালা,  
অনেক কষ্টে থাকি,  
বাঁচার লড়াই চলতে থাকে,  
জীবন যুদ্ধে ঢাকি।  

কাতর থাকি ক্ষুধার জ্বালায়,  
কষ্ট পেয়ে মরি,  
ছেঁড়া চাদর শীতের রাতে,  
ছেঁড়া কাঁথায় ভরি।  

ঘুম আসে না ছেঁড়া কাঁথায়,  
কষ্ট পিছু পিছু,  
বহে জোরে হিমেল বায়ু,  
নেই যে বস্ত্র কিছু।  

কষ্টে থাকি ভীষণ শীতে,  
ছেঁড়া কাঁথা পুঁজি,  
অনাহারে থাকি মোরা,  
অল্প খাবার খুঁজি।  

ভোরের কবি
আল আমিন মুহাম্মাদ
খোকা রোজ ভোরবেলা ওঠে
দেখে চেয়ে, বাগে ফুল ফোটে।
জোনাকিরা নেভে চুপচাপ,
শিশিরেরা পড়ে টুপটাপ।

পাখি গায় সুরে সুরে বনে
আলোছায়া কালোছায়া রণে।
চাষি মাঠে মাঝি ঘাটে যায়
রবি ওঠে গুটিগুটি পায়।

দোলা দেয় প্রকৃতির ছবি,
ভেবে ভেবে খোকা হয় কবি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ